Header Ads

সর্বশেষ

সব জঙ্গিই মুসলমান


উগ্র ইসলাম’ ক্রুর হেসে ‘ভদ্র ইসলামকে’ বলে- তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে…

ননসালাফি ইমাম, আলেম-ওলামা যারা উদার আর শান্তিময় ইসলামের অনুসারী তারা বলছেন, মওদুদিবাদী ও জাকির নায়েক গংরা ইসলামের সুমহান ভ্রাতিত্ব ও সহনশীলতার বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছে যাতে পরিস্কারভাবে প্রতিয়মান হয় যে, এরা ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। ইহুদীদের দেয়া অর্থতেই আহলে হাদিসধারীরা ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এরাই আইএস, এরাই আনসারুল্লাহ

মনের মধ্যে এতখানি ঘৃণা রেখে, একটা পুরো ধর্মীয় সম্প্রদায়কে ইসলামের শত্রু বলে তাদের প্রতি মুসলিমদের মনে ঘৃণা তৈরি করে কেমন করে তারা ইসলামের উদার ও শান্তিবাদী হলেন? আসলে ইসলামের উদার ও শান্তি হচ্ছে সোনার পাথরবাটি!

ইহুদীরা ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, এরকম কথা একটা দেশের গণমাধ্যমে অবাধে এইসব উদারবাদীরা বলতে পারেন, কোথাও ‘রেসিজমের’ অভিযোগ উঠে না। কোথাও ‘ইহুদী বিদ্বেষ’ বলে সমালোচনা হয় না। যারা একটি ধর্ম সম্প্রদায়ের উপর এতখানি বিদ্বেষ প্রসন করতে পারে তারা অন্যসব ধর্মের প্রতি একই মনোভাব প্রসন করতে পারে। ঐতিহাসিকভাবে এদেশে বহিরাগত মুসলিম শাসকরা স্থানীয় হিন্দু রাজাদের হাত থেকেই ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছিলেন। ভারতবর্ষে তাই এই হিন্দুরা অঘোষিত ‘ইহুদী’ মুসলিমদের চোখে। লাহোর প্রস্তাব কিংবা দ্বি-জাতি তত্ত্ব যদি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন হতো তাহলে বাঙালী হিন্দুর কপালে ছিল ইহুদীদের মতই ভাগ্যবরণ। 

মুসলিমদের জন্য বাংলা আসামসহ পূর্বাঞ্চলে যে আলাদা রাষ্ট্রের কথা লাহোর প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, সেটি শতভাগ বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবাংলার বাঙালীদের কোলকাতাসহ আশপাশ ছেড়ে অর্থ্যাৎ বাংলা ছেড়ে অন্য কোন রাজ্যে আশ্রয় নিতে হতো। মাওলানা ভাসানী যে বলতেন, বাংলা আমার, আসাম আমার… এই ‘আমার’ মানে মাটির কথা, মানুষের না। লাহোর প্রস্তাব মুসলমানদের জন্য পৃথক রাষ্ট্রের কথা বলা হয়েছিল যেখানে শুধু মুসলমানরাই বসবাস করবে। দেশভাগকালে লাহোর প্রস্তাব ও দ্বি-জাতি তত্ত্ব পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। হয়নি বলেই পূর্ব পাকিস্তানে কিছু হিন্দু থেকে গিয়েছিল, ভারতেও চার কোটি মুসলমান থেকে গিয়েছিল।

যেসব আলেমরা আইএস ও জাকির নায়েক বিরোধী যেমন মাওলানা মাসউদসহ সরকারী নানা লোভনীয় পদে বসে আছেন সরকারের ঘনিষ্ঠ আলেম, তারা এই কিছুদিন আগেও পাঠ্যপুস্তক হতে ‘হিন্দুত্ববাদী অংশ’ বাতিল করতে বলেছেন! শরৎচন্দ্র, বঙ্কিমদের মত লেখকদের লেখা বাদ দেয়াই ছিল তাদের দাবী। 

এমনকি হুমায়ূন আজাদের মত নাস্তিকের লেখা ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে পাঠ্য বইতে থাকা চলবে না বলে হুশিয়ারী দিয়েছিলেন। সমস্ত সালাফি, উগ্র, জিহাদী ইসলাম হয়ত এইসব শান্তিবাদী আলেমদের দেখে এখন বলতেই পারে, ‘তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে’! সেই একই কথা, যা সালাফিরা, মওদুদিবাদীরা, জাকির নায়েকরা বলেন, সেটাই ভিন্ন লেবেল লাগিয়ে, ভিন্ন বোতলে ভরে দিলেই হলো, লেবেলে শুধু লেখা থাকবে ‘শান্তিবাদী উদার’ ব্যস, ইহুদী-হিন্দু বিদ্বেষী কথা বলেও তখন শান্তিবাদী, উদার ইসলামের অনুসারী! বাহ্!

ফ্রান্সে আবার হামলা। হামলাকারীর প্রাথমিক পরিচয় তিউনিশিয়া বংশদ্ভূত ফরাসী নাগরিক। তার মুসলিম পরিচয়টির বিষয়ে হয়ত আমরা আরো কয়েক ঘন্টা পরে নিশ্চিত হতে পারব। ধরুন তো, বাংলাদেশ কিংবা পাকিস্তানে সংখ্যালঘু হিন্দু কিংবা বৌদ্ধরা তাদের ধর্মীয় পরিচয়ে প্রায়ই এরকম ১০০ জন, ৮০ জনকে হত্যা করে ফেলছে তখন সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রতিক্রিয়া কি হতো? ভারতের উগ্র হিন্দুরা একটা পরিত্যক্ত মসজিদকে ভাঙ্গতে গেলে বাংলাদেশের মন্দিরগুলো মাটি মিশে যাবার দশা হয়, সেখানে পশ্চিমারা মুসলিমদের সন্ত্রাসবাদ দেখে ভীত হয়ে তাদের দেখলেই ভয়ে পালায়। কেউ ফান করে ‘আল্লাহো আকবর’ বললেই আতংকে দৌড়াতে থাকে। 

সেটাকেই কত লোকজন রেসিজম বলে কান্নাকাটি করছে! পশ্চিমারা সব মুসলনাকে সন্ত্রাসী বলে নাই যেটা আমরা আমাদের গণমাধ্যমে ইহুদীদের ইসলামের শত্রু বলে প্রচার করছি। পশ্চিমারা বলছে, সব মুসলিম জঙ্গি না, তবে সব জঙ্গিই মুসলমান তাই সতর্ক থাকতে হবে মুসলিম পরিচয়ের সবার কাছ থেকে। এই নিরাপত্তাজনিত বোধ যাদের গায়ে লাগছে তারা এইসব ‘মুসলিম বিদ্বেষী’ সাদা চামড়াদের দেশে কি ছিড়তে পড়ে আছেন? হেডেম থাকলে তেব্র প্রতিবাদ করে ঐ দেশ ছেড়ে চলে যান…।

No comments