Header Ads

সর্বশেষ

ধর্ম নামের ব্যবসা


এই বিশাল ভারতবর্ষ নামের ভূখন্ড যার নামে পরিচিত সেই ভরত ছিলেন রাজা দুষ্মন্ত ও শকুনতলার “অবৈধ” সন্তান। রাজা দুষ্মন্ত শকুনতলার প্রতি কামাসিক্ত হয়ে স্রেফ একটা আংটি পরিয়ে বিয়ে করেন এবং পরবর্তীকালে দুষ্মন্ত শকুনতলাকে ও তার সন্তানকে অস্বীকার করেন। মহাভারতের কর্ণ তার কুমারী মা কুন্তির সন্তান।…সেই ভারতবর্ষে একজন মা, যিনি সন্তানকে পেটে ধারন করেন, যার রক্তে-মাংসে একটু একটু করে বেড়ে উঠে সন্তান, কেন সে সন্তান তার মায়ের পরিচয়ে স্বীকৃতি পাবে না? যে দেশে ভরত বা কর্ণকে দেবতা জ্ঞানে সম্মান করা হয় সে দেশে কেন পিতৃ পরিচয়হীন সন্তানকে স্বীকৃতি দিবে না?


রাজতন্ত্রকে হটিয়ে বামপন্থিরা নেপালের ক্ষমতায় এসেছেন। সেখানে কোন বিজিপি বা হিন্দু সংঘ সরকার গঠন করেননি। করেছে বামপন্থিরা এবং তারাই পার্লামেন্টে বিল আনতে যাচ্ছে- যে সব মায়ের তার সন্তানের পিতার স্বীকৃতি নেই তাদের নাগরিত্ব দিবে না নেপাল সরকার। 

সেদিন এনটিভিতে ইসলামী সাওয়াল জবাবের একটা অনুষ্ঠানের খানিকটা দেখছিলাম। মানুষ কতটা ধর্ম দ্বারা অসুস্থ, নির্বুদ্ধি, কান্ডজ্ঞানহীন হতে পারে এ ধরনের ইসলামী প্রশ্ন-উত্তর পর্ব না দেখলে অনুমান করা যাবে না। যাই হোক, সেই অনুষ্ঠানে একজন মহিলা প্রশ্ন করলেন, তিনি বাড়িতে পাখি পোষেন, পাখি পোষা ইসলামে জায়েজ কিনা? বিদঘুটে, উদ্ভট পোশাকের এক মাওলানা উত্তর করলেন, হাদিসে আছে একজন সাহাবী (নামটা আমি ভুলে গেছি) পাখি পোষতেন, নবী এটা জানার পরও নাকি কোন মন্তব্য করেননি। নিষেধ করেননি পাখি না পোষার জন্য। কোন বিধিবিধানও ঠিক করে দেননি। কাজেই পাখি পোষা ইসলামে কোন নিষিদ্ধ কাজ নয়। হুজুর নিজে থেকে যোগ করলেন, তবে পাখি পোষার সময় খেয়াল রাখবেন যেন পাখির মৌলিক যে অধিকারগুলো আছে সেগুলো যেন লঙ্ঘন না হয়। 

যেমন দানা-পানি দেয়া ইত্যাদি। নবী যেখানে কিছুই বলেননি এ বিষয়ে সেখানে এই মৌলবী আগ বাড়িয়ে যা বললেন সেটা ইসলাম বলে মানতে হবে নাকি? একটা পাখিকে দানাপানি দিতে হবে এটা নবী বলেননি। কাজেই খাঁচার পাখিকে কিছু না খাইয়ে মেরে ফেললেও কোন দোষ নেই? একটা পাখির মৌলিক অধিকারের মধ্যে অন্যতম হলো তার উড়বার স্বাধীনতা। মানুষ সেই মৌলিক অধিকারকে হরণ করে একটা পাখিকে নিজের বিকৃত সখ পুরনের জন্য পোষে। যে মহিলা প্রশ্ন করেছিলেন তার কিন্তু মনের মধ্যে একটা অপরাধবোধ কাজ করতো এ জন্য। 

পাখিকে বন্দি করে রেখে কাজটা ঠিক হচ্ছে কিনা- তার বিবেক এই প্রশ্ন করেছিল। ইসলাম তাকে সেই দায় থেকে রেহাই দিয়েছে। মানে তাকে বুদ্ধি-বিচারহীন একটা জানোয়ারে পরিণত করেছে। কাজটা খারাপ এটা ধর্ম ঠিক করে দিবে কেন? ঠিক করবে মানুষ নিজে। নারীদের খৎনার মত ভয়ংকর, নিমর্ম একটা প্রথাকেও ইসলাম নিষেধ করেনি। বরং নবী হাযমদের উপদেশ দিয়েছিলেন, খৎনা করার সময় সাবধানতা অবলম্বণ করতে। নারীকে যৌনসুখ বঞ্চিত করে তাকে আজীবনের জন্য অসাড় করে দেয়ার কুৎসিত আরব প্রথাকে ইসলাম বহাল রেখেছে। 

এখন একজন বোধসম্পন্ন মানুষ, যার বিবেক আছে, একজন মানুষকে খোজা করে দেয়ার এই যে বর্বরতা সেটা উপলব্ধি করতে হবে কিতাবের সাহায্যে? ইসলাম যেহেতু বলেছে কাজটায় দোষ নেই, কাজেই এইরকম বর্বর প্রথাকে বগলবাজিয়ে মেনে নিতে হবে! মানুষ যদি তার বিবেককে এভাবে হাজার বছর আগের কোন চিন্তা-চেতনা দিয়ে রক্ষা পেতে চায় তাকে আর যাই হোক সুস্থ মানুষ বলা যাবে না। পৃথিবীর ট্রেজিডি এখানেই যে, সংখ্যাগরিষ্ট মানুষ এভাবেই তার বিবেককে “ইনডেমেনিটি” দিয়ে স্বস্তি পায়! যারা সব সময় “ধর্মের মধ্যে খারাপ কিছু নেই” বলে ভাল মানুষী করতে চান- তারা কোনদিন এইদিকগুলোকে বিবেচনায় আনেন না। সমাজে মডারেটদের মুখে সব সময় যেটা শোনা যায়- “সব ধর্মেই ভাল কথা বলা আছে”- কথাটা বার বার বলা একটা মিথ্যা আসলে। বরং কথাটা হবে- সব ধর্মের মধ্যেই খারাপ জিনিস আছে…।


মানুষ যেদিন তার বুদ্ধি, বিবেচনা দিয়ে তার বিবেককে কাজ করাবে, ভাল, মন্দ, উচিত-অনচিত নির্ধারন করতে শিখবে- সেদিনই ধর্মের মুঠি আলগা হতে শুরু করবে। হাদিস-কুরআন, বেদ-শাস্ত্রকে বাতিল করে মানুষ নিজের মানুষত্বকে বিচার্য করতে শিখলেই ধর্মের ব্যবসা শেষ! …

No comments