কোরান নাযিল হতে ২৩ বছর লাগলো কেনো?
ভেবে দেখুন সম্পূর্ণ কোরান ২৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে নাযিল হয়েছিলো। একটিবার কি মনে প্রশ্ন জেগেছে যে, কোরান নাযিল হতে ২৩ বছর লাগলো কেনো? আল্লাহ মানবজাতির জীবনবিধানটি একবারে একসাথে না পাঠিয়ে ২৩ বছর ধরে একটি দুটি করে আয়াত কেন নাযিল করলেন? উত্তর একটাই, কোরানের আয়াতগুলো নাযিল হয়েছিলো নবী মুহাম্মদের জীবনে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে। প্রয়োজন অনুসারে একটি দুটি করে আয়াত আসতে থাকতো, এভাবেই ২৩ বছর কেটে যায় পুরো কোরানটা নাযিল হতে।
এ থেকে একটা বিষয় সুস্পষ্ট যে, কোরানটা মুহাম্মদের ব্যাক্তি জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত। কোরান বাংলা অর্থসহ পড়লেই বুঝবেন সেখানে মুহাম্মদের পার্সোনাল লাইফটা কিভাবে এসেছে বার বার।
কোরান যদি সকল যুগের সকল মানুষের জীবনবিধান হিসেবে রচিত হবে, তাহলে সেটা মুহাম্মদের ব্যাক্তিজীবনের সাথে সম্পৃক্ত হবে কেন? কোন একটা একক ব্যাক্তি কি করে সকল যুগের সকল মানুষের আদর্শ হয়? স্থান-কাল-পাত্র ভেদে মানুষের করণীয় ভিন্ন ভিন্ন হওয়াটাই স্বাভাবিক।
Bukhari, Vol. 6, Book 60, Hadith 311 | বাংলা ভার্শন আয়াশা বলবে হে নবী
… আমি দেখছি যে, আপনি যা ইচ্ছা করেন, আপনার রব তা-ই শীঘ্র পূর্ণ করে দেন।
,,আয়শা কিন্তু ঠিকই বুঝেছিলেন মহাম্মদের ছলচাতুরি
মোহাম্মদের মধ্যে তোমাদের অনুসরণের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ” (৩৩.২১)।
,,,
“ বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, যাতে আল্লাহ ও তোমাদিগকে ভালবাসেন এবং তোমাদিগকে তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু।
সূরা আল ইমরান:31 –
,,,,কি বুঝলেন গুনা মাফ করে দেবেন। এইটা যদি আল্লার আয়াত হত তাহলে বলতেন মাফ করে দিব
4সূরা আন নিসা:13 – এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। যে কেউ আল্লাহ ও রসূলের আদেশমত চলে, তিনি তাকে জান্নাত সমূহে প্রবেশ করাবেন, যেগুলোর তলদেশ দিয়ে স্রোতস্বিনী প্রবাহিত হবে। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। এ হল বিরাট সাফল্য।
ক
4সূরা আন নিসা:14 – যে কেউ আল্লাহ ও রসূলের অবাধ্যতা করে এবং তার সীমা অতিক্রম করে তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন। সে সেখানে চিরকাল থাকবে। তার জন্যে রয়েছে অপমানজনক শাস্তি।
আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোন কাজের আদেশ করলে কোন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন ক্ষমতা নেই যে, আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আদেশ অমান্য করে সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্ট তায় পতিত হয়।33সূরা আল আহযাব:36 –
মহাম্মদ মানুষকে আল্লার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় মানুষকে অপকর্ম করার আদেশ করেছেন
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ সেই আল্লাহর শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের কেউ প্রকৃত মু’মিন হতে পারবে না, যতক্ষন না আমি তার নিকট তার পিতা ও সন্তানাদির চেয়ে অধিক ভালবাসার পাত্র হই।
(আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৩)
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১৪
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
K
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তোমাদের কেউ প্রকৃত মু’মিন হতে পারবে না, যতক্ষন না আমি তার নিকট তার পিতা, তার সন্তান ও সব মানুষের অপেক্ষা অধিক প্রিয়পাত্র হই।
(মুসলিম ১/১৬ হাঃ ৪৪, আহমাদ ১২৮১৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৪)সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১৫হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
এবং যখন আমি এক আয়াতের স্থলে অন্য আয়াত উপস্থিত করি এবং আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেন তিনিই সে সম্পর্কে ভাল জানেন; তখন তারা বলেঃ আপনি তো মনগড়া উক্তি করেন; বরং তাদের অধিকাংশ লোকই জানে না।Quran 16:101
মহাম্মদ তার সুবিধা মতো আমাত ডাউনলোড করতেন।
আমি কোন আয়াত রহিত করলে অথবা বিস্মৃত করিয়ে দিলে তদপেক্ষা উত্তম অথবা তার সমপর্যায়ের আয়াত আনয়ন করি। তুমি কি জান না যে, আল্লাহ সব কিছুর উপর শক্তিমান?Quran 2:106
এখানে মহাম্মদ বললেন আমি কোনো আয়াত কে বাতিল করলে। সেই আয়াতের চেয়ে ভালো আয়াত নিয়ে আসি। এখন প্রশ্ন আসতে পারে মহাম্মদের জন্মের আগে যদি কুরআন লাওহে মাফুজে লিপিবদ্ধ করা থাকে। তাহলে কুরআনের আয়াত মহাম্মদ বাতিল করে কিভাবে আল্লার চেয়ে মহাম্মদ বড় হয়ে গেলো নাকি (মহাম্মদই আল্লা আল্লাই মহাম্মদ)
আল্লাহ বলেন, কুরান নাযিলের আগেই তা লাওহে মাহফুযে লিপিবদ্ধ। তাছাড়া, কখন কি নাযিল করবেন তা তো সবজান্তা আল্লাহ আগেই থেকেই জানবেন। তিনি কেনো প্রথমে এক রকম আয়াত নাযিল করে পরবর্তীতে উক্ত আয়াতের স্থলে এর থেকে উত্তম আয়াত নাযিল করবেন? তাহলে, প্রথমে বাতিল বা অধম আয়াতটি নাযিল কেনো করা হয়েছিলো? আল্লাহ নিজেও কি ভুল করেন এবং পরে তা সংশোধন করেন? চিন্তার বিষয়। এ থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে, কুরান সবজান্তা সৃষ্টিকর্তার বাণী নয়। মুহাম্মদের চালাকি যেনো কেউ ধরতে না পারে, সেজন্যে পরস্পরবিরোধী আয়াত নাযিল করে ফেললে তাদের মধ্য থেকে যেকোন একটি আয়াতকে উত্তম বলে চালিয়ে দেয়ার জন্যে উপরোক্ত আয়াতদ্বয় পয়দা করেন চালাক নবী।

No comments